
মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ত্যাগের শিক্ষা প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য। তিনি বলেন, কুরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জ্বীবিত হতে হবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২১ আগস্ট মঙ্গলবার দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই-বোনদের জানান ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।
পবিত্র ঈদুল আজহা আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর- এ কথা উল্লেখ করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্মীয় এ উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। মহান আল¬াহর নির্দেশে স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ:) কে কুরবানি করতে উদ্যত হয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ:) আল্ল¬াহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা, অবিচল আনুগত্য ও অসীম আত্মত্যাগের যে সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে অতুলনীয়। কারণ আজহার অর্থ কুরবানি বা উৎসর্গ করা। তিনি বলেন, কুরবানির মর্ম অনুধাবন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জ্বীবিত হতে হবে। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করে আসছে। এটা আমাদের সম্প্রীতির এক অনুপম ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, সকল ধর্মের মূল বাণী হচ্ছে মানব কল্যাণ। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা করে স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য বয়ে আনুক কল্যাণ, সবার মধ্যে জেগে উঠুক ত্যাগের আদর্শ- মহান আল্লাহর কাছে এই আমার প্রার্থনা।