হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হলেন ড. মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডল

লাল দর্পণ।। হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা নির্বাচিত হলেন দেশ বরেণ্য গবেষক, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা, লাল দর্পণ মিডিয়া গ্রæপের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল পাবলিক সার্ভিস (বিসিপি) এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি ড. মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডল। গত ৪ আগষ্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির মহাসচিব সেহলী পারভীন।

লালমনিরহাট জেলার ইতিহাস, রংপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চায় রঙ্গপুর-সাহিত্য-পরিষৎ, রবীন্দ্র স্মৃতি অ্যালবাম সহ বহু গ্রন্থপ্রণেতা ও বাংলাদেশে গণহত্যা গ্রন্থের সঙ্কলক ড. মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডল। জাতীয় ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে স্থানীয় তথা তৃণমূল পর্যায়ের ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণার লক্ষ্যে তিনি ২০০৩ সালের ১৮ মে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল-পিএইচ.ডি গবেষক সহ সাধারণ গবেষক ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বিনা মূল্যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

যুব সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বেসরকারী উদ্যোগে লালমনিরহাট জেলায় তিনিই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় ‘চেতনায় ৭১’ শিরোনামে এ ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত সা¤প্রদায়িকতা বিরোধী সম্মিলিত আন্দোলনের প্রথম মতবিনিময় সভার আহŸায়ক ছিলেন তিনি। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারেক আলী। একুশে পদক প্রাপ্ত ফটোসাংবাদিক আফতাব আহমদ তার জীবনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম প্রদর্শনীর আলোকচিত্র গুলো ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা জাদুঘরকে প্রদান করেন এবং ড. মোঃ আশরাফুজ্জামান মন্ডলকে তাঁদের একজন যোগ্যতম উত্তরসূরী হিসেবে অভিহত করে পত্র দেন। বিশ্ব জাদুঘর দিবস-২০১৩ উপলক্ষ্যে ঢাকাস্থ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃক লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর এবং ড. মোঃ আশরাফুজ্জামান মন্ডলের পরিচিতি ও কর্মকাÐ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার তৎকালীন পুলিশ সুপার ও বর্তমান ডিআইজি বাংলাদেশ পুলিশের আইকন মো. হাবিবুর রহমান।

ড. মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডল নীরবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। বিভিন্ন গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকায় তার কর্মকান্ড নিয়ে অনেক লেখা প্রকাশ হয়েছে। তার স্বপ্রণোদিত কর্মকান্ড লালমনিরহাট জেলার প্রতি তার গভীর প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ২০০৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ লালমনিরহাট জেলা ইউনিট কমান্ড যৌথভাবে তাকে লালমনিরহাট রতœ খেতাবে ভূষিত করে। তিনি লালমনিরহাটকে জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন। তার সুখ্যাতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে বহির্বিশে^। বিভিন্ন দেশের গবেষকগণ তার সাথে সাক্ষাতের জন্য লালমনিরহাটে আসতে দেখা যায়।

তিনি তার কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ রোদ্দুর সম্মাননা- ১৪১১ বঙ্গাব্দ, হামার লালমনি প্রদর্শনী পুরস্কার- ২০০৬, প্রথমআলো-গ্রামীণফোন সম্মাননা- ২০০৬, লালমনিরহাট পৌরসভা সম্মাননা- ২০০৮, আরশীনগর গুণীজন সম্মাননা- ২০১২, কবিসংসদ বাংলাদেশ সম্মাননা- ২০১৪, স্মৃতি’৭১ স্বর্ণপদক- ২০১৫, কবি জসীম উদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার- ২০১৫, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ স্মারক সম্মাননা- ২০১৬, ৭১’র চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ স্মারক সম্মাননা- ২০১৬, লালমনিরহাট বার্তা গুণীজন সম্মাননা- ২০১৭, ICT4E রংপুর বিভাগীয় সম্মাননা স্মারক- ২০১৯, ব্রিটিশ কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এওয়ার্ড ২০২০-২০২২ সহ অনেক সম্মাননা পেয়েছেন।

বাংলাদেশে কর্মরত মানবাধিকার সংস্থা ও কর্মীগণের উদ্দেশ্যে ড. মো. আশরাফুজ্জামান মন্ডলের বক্তব্য সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান রেখে দেশ প্রেমের চেতনা বুকে লালন করেই মানবাধিকার চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। দল-মত-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের মানবাধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। দেশ ও দেশের স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য, আর নাগরিকগণের অধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার সংস্থা ও কর্মীগণের কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম