
লাল দর্পণ।। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ১৬ বছরে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন, কিন্তু তিস্তার একফোঁটা পানিও আনতে পারেন নাই। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৪টা নদী আছে। প্রত্যেকটা নদীতেই ভারত বাঁধ বসিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, একদিকে ভারত আমাদের পানি দেয় না, অন্যদিকে বাংলাদেশের শত্রু হাসিনাকে তারা ভারতে জায়গা দিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে।
১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা রেলওয়ে সেতু সংলগ্ন চর পয়েন্টে তিস্তা রক্ষা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচীর প্রথম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’’ স্লোগান কে সামনে রেখে একসঙ্গে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১১টি পয়েন্টে সমাবেশ, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করছেন ‘‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি’’। টানা ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কর্মসূচী বাস্তবায়নে তিস্তার বুকে মঞ্চ তৈরি, খাবার ব্যবস্থা, তাঁবু টাঁঙ্গিয়ে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুকিয়ে যাওয়া তিস্তা কে রক্ষার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, মৎস্যজীবী, পরিবেশকর্মী, চিকিৎসক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে সামিল হয়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আজকের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটাকে আমরা শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাব। মাওলানা ভাসানী যেমন তিস্তা রক্ষার আন্দোলন শুরু করেছিলেন, বহুদিন পর আজ সাবেক উপমন্ত্রী ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সেই আন্দোলন আবার শুরু করেছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি উদ্দেশ্য করে মির্জা ফথরুল বলেন, নিজেদের নিরপেক্ষ সরকার বলে দাবী করলে ভারতের কাছে তিস্তার ন্যায্য পানি তাদের চাইতে হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচন দিন, জনগণ অনেক বছর ভোট দিতে পারেনি। তাই জনগণ চায় ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠাতে। তাদের দ্বারা তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করাবেন। অনেকে বলেন, আমরা নাকি ভোট ভোট করি। ভোট হলে দেশে যে অস্থিতিশীলতা চলছে, তা বন্ধ হবে। জনগণ প্রতিনিধি পাবে তাদের কথা বলার জন্য।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ভারতকে বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। তবে ন্যায্য পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিতে হবে। সীমান্তে আমাদের নাগরিক কে গুলি করে হত্যা বন্ধ করতে হবে।
কর্মসূচীতে আগত জনতার উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, লড়াই না করে কিছু পাওয়া যায় না। লড়াই করে আমাদের অধিকারগুলো আদায় করবো। ন্যায্য পাওনা বুঝে নেয়া হবে।
অবস্থান কর্মসূচীতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বাংলায় কথা আছে- ঠেলার নাম বাবাজি! আজকের এই কর্মসূচী যখন ৬০ দিন আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, এরপর গত কয়েক দিন আগে ভারত পানি ছাড়া শুরু করেছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে ঘোষণা করতে চাই, যদি তিস্তার ন্যায্য হিস্যা না দাও তাহলে আমরা এককভাবে ‘‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’’ বাস্তবায়ন করবো। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের অধিকার আছে, যে কোন সিদ্ধান্ত নেবার। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তিস্তার ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ (ভা.প্রা.) এবিএম ফারুক সিদ্দিকী।
লাখো মানুষের সমাগমে মুখরিত রয়েছে ৪৮ ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচীর স্থল।