শার্শা উপজেলার নাভারন-সাতক্ষীরা মোড়ে কৃষি শ্রমিকের হাট

যশোর, শার্শা প্রতিনিধি।। প্রতিবছর ধান কাটা, মাড়াই ও রোপণের সময় নাভারন-সাতক্ষীরা মোড়ে বসে কৃষি শ্রমিকদের হাট। চলে মৌসুমজুড়ে। এরই ধারাবাহিতায় এবছর ও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। প্রতিদিন ভোরে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বসে এই হাট। ভিড় করেন শ্রম ক্রেতা ও বিক্রেতারা। করোনা ভাইরাসের এই মহামারির মধ্যেও চলছে জমজমাট কৃষি শ্রমিকদের হাট।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, করোনাভাইরাসের বিপদ থাকলেও ফসল না তুলে তো উপায় নেই। তবে এখানে দূরের শ্রমিক যারা আসছেন তারা এলাকা থেকে অনুমতি নিয়ে আসছেন। তাছাড়া প্রশাসন থেকে সব সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রচার চালানো হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয় থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে মাঠ থেকে ধান তোলার তাড়া রয়েছে।

“একই সঙ্গে সবাই ধান তোলা শুরু করায় উপজেলার সর্বত্র কৃষিশ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। বাইরের শ্রমিকরা আসায় সেই অভাব অনেকটা পূরণ হচ্ছে।”

শ্রমিকরা জানান, তারা এসেছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে।

স্থানীয়ভাবে এই বাজারের শ্রমিকরা ‘দখিনের জোন’ নামে পরিচিত। বাজারে দরকষাকষি করে এই শ্রম কেনাবেচা হয়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালি গ্রামের মোস্তফা গাজি (৪৮) নামের একব্যক্তি ১৪ সদস্যের একটি শ্রমিকদলের নেতা।

মোস্তফা বলেন, “মহাজন তিন বেলা খাতি দেচ্ছে। আর বিঘেপ্রতি ৪২০০ টাকায় ধান ঘরে তুলে দিচ্ছি। গরমের জন্যি কাজ করতি খুব কষ্ট হচ্ছে।”

তারা কাজ করছেন শার্শার নাভারন কাজিরবেড় গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ক্ষেতে।

আনোয়ার বলেন, মাখলার বিলে তিনি এবার ২৮ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন।

“এখন প্রচণ্ড গরম। যেকোনো সময় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তাই ধান তোলা নিয়ে বেশ ঝামেলায় আছি। তাড়াতাড়ি ধান ঘরে তোলার জন্য ১৪ জনের এই দলটি নিয়ে এসেছি।”

এই বাজারের কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। বাজারে নেই কোনো খাজনা-সমিতির ঝামেলা। নেই বাজার কমিটি। শ্রম ক্রেতা-বিক্রেতারা আপনগতিতেই চলেন এখানে।

প্রতিদিন এই বাজার থেকে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক বেচাকেনা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

নাভারন ফজিলাতুন নেছা মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাক জাকিয়া ইশরাত জাহান রানীর বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় মাছের চাষ বেশি হওয়ায় সেখানে কৃষিশ্রমিকদের কাজ থাকে না। তাছাড়া এ সময় হাতে কাজ কম থাকায় অল্প সময়ে বেশি উপার্জনের আশায় এসব শ্রমিক এখানে কাজ করতে আসেন।

মঙ্গলবার পর্যন্ত শার্শা উপজেলার ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল।

print
Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম