
লাল দর্পণ।। লালমনিরহাট সহ রংপুর বিভাগে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পলিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজামন্ডপ গুলোতে বিভিন্ন বয়সী ভক্তদের চলছে উপচেপড়া ভিড়। শৈল্পিক কারুকার্য্য আর রঙ তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় সেজেছে অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিমাগুলো। মন্ডপ দর্শনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের লোকজনেরও উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এ বছর রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৫ হাজার ১৮৯টি পূজামন্ডপ সেজেছে দূর্গা উৎসব আয়োজনে। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপ রয়েছে ১ হাজার ৩১১টি। আর গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬টি পূজা মন্ডপ। সাধারণ শারদীয় দুর্গাপূজার মন্ডপ হিসেবে ২ হাজার ৫৭২টি পূজা মন্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় মোট ৪০৯টি মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজা। তার মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৮০ টি মন্ডপ। আর মন্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রয়েছে ৩০৪ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার আনসার সদস্য। এ ছাড়াও পুলিশের নেতৃত্বে পুরো জেলায় ৪০টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ভাবে পুজামন্ডপ গুলোর নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত রয়েছে। উৎসব মুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে ৫ শত কেজি হারে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিমা কারিগররা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে হৃদয়ের ভালোবাসায় মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এনেছেন পূর্ণতা। শৈল্পিক কারুকার্য্য আর রঙ তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় সেজেছে অনিন্দ্য সুন্দর প্রতিমাগুলো। পাঁচ দিনের এ উৎসবে ১১ অক্টোবর সোমবার ছিল ষষ্ঠী, আজ ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার সপ্তমী। বুধবার হবে অষ্টমী, বৃহস্পতিবার নবমী এবং শুক্রবার দশমীর দিন বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে দূর্গা পূজার। এবারই রাজধানীর পরেই দেশের মধ্যে প্রথম শুভ মহালয়ার আয়োজন হয়েছে রংপুরের ডিমলা রাজ দেবোত্তর এস্টেটে।
শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা বা নাশকতার আশংকা নেই বলে উল্লেখ করেছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন- ‘এবছর আমাদের কাছে জঙ্গি হামলা সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য নেই, এরপরও আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেকোনো ধরনের উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি’।
পুজামন্ডপ গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব, পুলিশ সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। পুলিশের রংপুর বিভাগীয় ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বিপিএম সহ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়মিত পুজামন্ডপ পরিদর্শন অব্যাহত রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।
এদিকে জেলা শহরের দোকান গুলো পূজার কেনা-কাটায় সরগম। বিভিন্ন বয়সী ক্রেতাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুসম্পন্ন হোক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সব কর্মকান্ড -এমন প্রত্যাশা সুধীমহলের।