
লাল দর্পণ ।। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জের সুকান দীঘি হতে পারে একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র।
এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মঙ্গাকবলিত জেলা ছিল লালমনিরহাট। সময়ের ব্যবধানে লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। এ জেলায় রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান/ঐতিহ্য, রয়েছে পর্যটন শিল্প বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা। জেলার দর্শনীয় স্থান/ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম- তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউজ, বুড়িমারী স্থলবন্দর, তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, দ্বিতীয় মহিপুর সড়ক সেতু, সিন্দুরমতি দীঘি, কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ, বিমানঘাঁটি, তিস্তা রেল ও সড়ক সেতু, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও চলবলা এ দু’টি ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী স্থানে শুকান দীঘি প্রায় ৯ একর জায়গা ব্যাপী বিস্তৃত। দীঘিটি কখন কিভাবে খনন করা হয় তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে নানান মতভেদ। কারো মতে প্রায় আট শত বছর আগে দীঘিটি খনন করা হয়েছিল, কেউ কেউ মনে করেন দীঘিটি কোনো “দেবতা ” খনন করেছিলেন। অতীতে এখানে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিয়ে-সাদির নানা আয়োজন করা হতো বলেও মনে করেন অনেকে। দীঘিটির পানি বছরে একবার চৈত্র মাসের দিকে শুকিয়ে যায়। একারণে স্থানীয়রা এর নাম রেখেছিলেন শুকানদিঘী। এর পাশেই একটি বড় বাজার গড়ে উঠেছে, যা শুকানদিঘী বাজার নামে পরিচিত।
শুকান দীঘির অবস্থান লালমনিরহাট সদর থেকে ২৩কিলোমিটার পশ্চিমে এবং আদিতমারীর নামুড়ী বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। এরশাদ সরকারের আমলে গরীব অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের পুকুরের চার পাশে বসাবসের জন্য আশ্রয় প্রদান করা হয়, যা এখন গুচ্ছ গ্রাম নামে পরিচিত। তারা বর্তমানে পুকুরটি লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ করছেন। এ দীঘির পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মনোরম পরিবেশ অনেককে আকৃষ্ট করে। সরকারি ভাবে সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়া হলে এবং এখানে একটি মনোরম পার্ক নির্মিত হলে সুকান দীঘি হতে পারে লালমনিরহাট জেলার একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র।