লালমনিরহাটে যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না পাওয়ায় গৃহবধুকে হত্যা। গ্রেফতার-১

লাল দর্পণ ।। ১০ আগস্ট শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না পাওয়ায় আদুরী রাণী রায় নামে এক গৃহবধুকে গলাটিপে হত্যা করেছে স্বামী ও তার শশুরবাড়ীর লোকজন।
লালমনিরহাট শহরের জেল রোড এলাকায় নিহতের স্বামীর ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতেই সবুজ কুমার রায় (১৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সবুজ কুমার রায় সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের বিধুভূষন রায়ের ছেলে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জুন তাপস তুমার রায়ের সাথে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার রথিরাম গ্রামের হেমন্ত কুমার রায়ের মেয়ে আদুরী রাণী রায়ের বিয়ে হয়। মেহেদীর রং না শুকাতেই ২লাখ টাকা যৌতুকের দাবী করে আদুরীর স্বামী ও শশুরবাড়ীর লোকজন। যৌতুকের দাবীকৃত টাকা না পেয়ে গৃহবধু আদুরী রাণীর উপর শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ১৭ জুলাই তার বাবা হেমন্ত রায় জামাতা তাপসের হাতে ১লাখ টাকা তুলে দেন। যৌতুক লোভী স্বামী দাবীকৃত বাকী ১লাখ টাকার জন্য নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ১০ আগস্ট শুক্রবার রাতে গৃহবধু আদুরীকে বেধরক মার পিট করে এবং তাকে গলাটিপে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ নিয়ে বিপাকে পড়ে শশুরবাড়ির লোকজন। পরে রাত গভীর হলে কৌশলে অসুস্থ্যতার কথা বলে জনৈক ড্রাইভার এরশাদুলের মাইক্রোবাস ভাড়া করে আদুরীর লাশ তুলে নিয়ে আসামী সবুজ কুমার রায় সহ হাসপাতালের দিকে রওনা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেয়ে ওই ড্রাইভার মাইক্রোবাসটি হাসপাতালে না নিয়ে থানার ভিতরে ঢুকিয়ে দেয় এবং আসামী সবুজ কুমারকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। ১১ আগস্ট শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে আদুরীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম জানান, গৃহবধু আদুরী নিহতের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সবুজ কুমার রায় নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম