লালমনিরহাটে থেমে নেই তিস্তা ও ধরলার ভাঙন

মোঃ আঃ রাজ্জাক।। লালমনিরহাটে বেশ কয়েকটি স্থানে তিস্তা ও ধরলার ভাঙন চলছে বিরামহীন। অনেকের ভিটেমাটি, আবাদি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা, দোকান পাট, ফসলী জমি ও ফলের বাগান চলে গেছে নদী গর্ভে। এমনকি ভাঙ্গনের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না আশ্রয়ন প্রকল্পের ভবনও।

তিস্তায় ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। পাশাপাশি তিস্তা পাড়ে চলছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন হারানোর কান্না। শেষ অবলম্বন টুকু হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন অন্যের জমিতে বা রাস্তার ধারে। সেখানেও নেই শেষ মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুর নিশ্চয়তা। নিদ্রাহীন ও অর্ধাহারে-অনাহারে অপরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে চলছে তাদের দিন।

সরে জমিনে দেখা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার ধরলা নদীর মোগলহাট ইউনিয়নের চড় ফলিমারি ও তিস্তা নদীর চর গোকুন্ডা, গোকুন্ডা, বগুড়াপাড়া, চর খারুয়া, খুনিয়াগাছ ও কুরুল সহ আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধরলা নদীর কুটি বাড়ির চর ও তিস্তার কুটিরপাড়, গোবর্ধন, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জ উপজেলার চর শোলমারী, ভোটমারী, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ী ও পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে চলছে ভাঙন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারীর কৃষক মফিজুর মিয়া (৩৩) বলেন, ‘ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে চর ফলিমরী এলাকার মানুষের। আমাদের এখানে বসত ভিটা মসজিদ ,মাদ্রাসা, দোকান পাট নদীর বুকে বিলীন হয়ে গেছে, এমনকি দুই কোটি টাকার বাজেট এর আশ্রয়ন প্রকল্পের মুজিব কেল্লাটির কাজ অর্ধেক হতে না হতেই প্রায় ভাঙ্গনের ১০০ গজের মধ্যে রয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তিস্তার চর গোকুন্ডার ও আদিতমারী উপজেলার দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার কৃষকরা জানান, ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে তাদের অনেকেই ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে, অনেকে সরকারি রাস্তার উপর। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে তাদের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে তিস্তায় ভাঙনের কারণে বসতভিটা হারানো পরিবারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।

বেশি ভাঙন-কবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে উল্লেখ করে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ভাঙন-কবলিত স্থানগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হবে।’

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম