
লাল দর্পণ।। লালমনিরহাটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ভাষাসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কমরেড শামসুল হক আর নেই। ২৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ লালমনিরহাট পৌরসভাধীন খোর্দ্দসাপটানা (বি.ডি.আর. হাট রোড সংলগ্ন) বাসভবনে আনা হয়েছে। ২৫ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় তার মরদেহ লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও নামাজে জানাযা শেষে লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে বলে কমরেড শামসুল হকের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।
কমরেড শামসুল হকের জন্ম ১৯৩৪ সালের ৭ মে। তার পিতার নাম মহিউদ্দিন সরকার এবং মাতার নাম সহিজন নেছা। ১৯৫২ সালে লালমনিরহাট হাই ইংলিশ স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সর্বোপরি তিনি ছিলেন দল-মতের উর্দ্ধে লালমনিরহাটের একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
লালমনিরহাট জেলা জাদুঘরের উদ্যোগে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রæয়ারি সোমবার তাকে ভাষাসৈনিক সম্মাননা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি জীবদ্দশায় অসংখ্যবার সংবর্ধিত হয়েছিলেন। না চাইলেও মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধের প্রতি সম্মান দেখাতে অসংখ্যবার সংবর্ধণা গ্রহণ করতে হয়েছিল তাকে।
মৃত্যুকালে তিনি ৯ ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও নাতি-নাতনী সহ অনেক শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।