
লাল দর্পণ।। অ্যাভিয়েশন সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা, এয়ারক্রাফট নির্মাণ, মেরামত, স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণ, মহাকাশ গবেষণা প্রভৃতি প্রযুক্তিতে বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হওয়ার এবং অ্যাভিয়েশন ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে লালমনিরহাটে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়”। গত ২৬ জুন রবিবার লালমনিরহাট মূল ক্যাম্পাসে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আগমনে ক্রমশঃ সরগম হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। জেলা শহরের রাস্তায় ছুটতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামাঙ্কিত বাস।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ জুলাই এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ইউজিসি খসড়া আইন তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএএইউ) প্রতিষ্ঠার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাশ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঢাকা তেজগাওয়ে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পরিত্যক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের কাজ দ্রæতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামীতে এটিকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উড়োজাহাজ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কারখানার পাশাপাশি এখানে মহাকাশ গবেষণা ও স্যাটেলাইট ইনস্টিটিউট স্থাপন সহ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে লালমনিরহাটে একটি এভিয়েশন সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
বিশ্বে এভিয়েশন শিল্পে দক্ষ জনবলের ঘাটতি বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ। ২০৩০ সালে যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০ লাখে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘাটতি পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।