লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে নববধুর অবস্হান

লাল দর্পণ।। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন রুমানা খাতুন (১৮) নামে এক নববধূ। উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের ডাড়ারপাড় গ্রামে স্বামী আশরাফুল ইসলাম শিলু (২৪) এর বাড়িতে ১৫ আগস্ট বুধবার থেকে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। নববধু রুমানা খাতুনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বর আশরাফুল। সরে পড়েছেন পরিবারের লোকজনও। এ অবস্থায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ঘরের বারান্দাতেই অবস্থান নিয়েছেন রুমানা।
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এক পর্যায়ে ৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়। দু’পক্ষের সম্মতিক্রমে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিয়ের আয়োজন করে মেয়ের পরিবার। পরে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের টেপাটারি গ্রামের আহেদুল ইসলামের মেয়ে রুমানা খাতুনের সাথে বিয়ে হয় ওই ইউনিয়নের ডারারপাড় গ্রামের শামসুল হকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম শিলুর। যৌতুক হিসেবে জামাইকে দিতে হবে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা। এ টাকার মধ্যে ১লক্ষ টাকা নগদ ও বাকি দেড় লক্ষ টাকা পরের দিন। সবাই রাজি হলেও বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর ছেলে কোন ভাবে রাজি নন। তার যৌতুকের টাকা নগদ লাগবে বলে বর পক্ষের লোকজন কনে পক্ষকে জানিয়ে দেন। কিন্তু কনের বাবা আহেদুল ইসলাম হঠাৎ করে এত টাকা দিতে না পারায় পরের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় যৌতুক নিয়ে বিয়ে বাড়ীতে শুরু হয় হইচই। ওইদিন সন্ধ্যায় পর পালিয়ে যান বর আশরাফুল ইসলাম। এ নিয়ে কনের বাবা আহেদুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ আওমীলীগের নেতাদের সাথে যোগযোগ করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর ১৫ আগস্ট বুধবার সকালে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে বরের বাড়িতে চলে আসেন কনে রুমানা খাতুন। কিন্তু কোন ভাবেই আশলাফুলের মা বাড়িতে ঢুকতে না দিলে আশরাফুলের ছোট চাচা শহিদার রহমান তাকে আশ্রয় দেন। এসময় কনের উপস্থিতি টের পেয়ে বর আশরাফুল ইসলাম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে তার পরিবারের লোকজনও বাড়ি থেকে সরে পড়েন। এ অবস্থায় স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ঘরের বারান্দাতেই অবস্থান নেন রুমানা খাতুন।
রুমানা খাতুন বলেন, ৩ বছর আগে তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমাদের বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের এলাকার মৌলভী দিয়ে বিয়ে দেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু সামান্য টাকার জন্য আমাকে রেখে চলে আসে আশরাফুল। তার সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। এখন সে আমাকে ‘স্ত্রী’ বলে অস্বীকার করছে। তাই আমি আশরাফুলের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছি। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত এ বাড়িতেই অবস্থান করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরের ছোট চাচা শহিদার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মকবুল হোসেন জানান, ফোনে এ ধরণের একটি ঘটনা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম