লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অশ্লিল ছবি দেখিয়ে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা। থানায় মামলা

লাল দর্পন।। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের মসুর দৌলজোর (মদনপুর) এলাকার সুদাংশু রায়ের স্ত্রী শ্রীমতী ছবিতা রানী (৩৫) কে একই এলাকার মৃত সামাদ (খলিফা) এর পুত্র চান মিয়া (৪৮) কম্পিউটারের মাধ্যমে অশ্লিল ছবির ভয় দেখিয়ে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শ্রীমতী ছবিতা রানী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নং- ১১, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১৮।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী শ্রীমতী রানী দারিদ্র্যতার কারণে ১ নং বিবাদী চান মিয়ার জমিতে ৭/৮ মাস আগে কৃষিকাজ করতেন। তখন থেকেই চান মিয়া তার দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে কু-প্রস্তাব দিতেন। কিন্তু ছবিতা রানী রাজী না হওয়ায় চান মিয়ার বড় ভাই ৬ নং আসামী সুরুজ মিয়াকে নালিশ করলে সে কোন বিচার না করে ছবিতা রানীকে উল্টো বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেন এবং নালিশ করার কারণে চান মিয়া আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে ছবিতা রানী ও তার মেয়ে জবা রানী রায় (২০) এর ছবি’র মূখমন্ডল অশ্লিল ছবির সাথে এডিটিং করে এলাকার বহু লোকজনকে দেখান।
এতেও ছবিতা রানী যৌন সম্পর্ক করতে রাজী না হলে গত ১২ আগস্ট বিকাল ৫ সময় চান মিয়া ছবিতা রানীর বাড়ীতে গিয়ে ছবিতা রানীর অশ্লিল ছবি ও তারা মেয়ে’র অশ্লিল ছবি হাতে দিয়ে তাকে এ সমস্ত অশ্লিল ছবি ইন্টারনেটে দেয়ার এবং মেয়ে জবা রানী রায়ের শ্বশুর বাড়ীতে গিয়ে ছবি দিয়ে আসার হুমকি প্রদান করেন। যাতে তার মেয়ের সংসার ভেঙ্গে যায়।
এসময় কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে চান মিয়া ডাক চিৎকার শুরু করলে ২ নং বিবাদী বাবুল মিয়া, ৩ নং বিবাদী সাহানা বেগম, ৪ নং বিবাদী সাহিদা বেগম, ৫ নং বিবাদী আছমা বেগম এবং ৬ নং বিবাদী সুরুজ মিয়া গং হাতে লাঠি সোটা নিয়া ছবিতা রানীর বাড়ীর উঠানে তাকে এলোপাথারী ভাবে মারধোর শুরু করেন। এই ঘটনা দেখে ছবিতা রানীর শ্বশুড় শ্রী ধরনী কান্ত বর্মন ও শ^াশুড়ী তরু বালা ছবিতা রানীকে বাঁচাতে আসলে তাদেরকেও মারধোর করে সুরুজ মিয়ার বাড়ীতে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে সারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধান সেখানে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
এ ব্যাপারে সারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়া মাত্রই তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
আদিতমারী থানার অফিসার ইন চার্জ মাসুদ রানা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরেই আমি তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং আসামীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম