লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও বিলের ঘটনা তদন্তে উপজেলা নির্বাহী অফিসার

লাল দর্পণ।। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকা বিলের ঘটনা তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান। ১৩ জুলাই শুক্রবার বিকেলে তিনি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মহিষাশ্বহর গ্রামে ভুক্তভুগি পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেন।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, মহিষাশ্বহর গ্রামের বিদ্যুতহীন ৩৩টি পরিবার বিদ্যুতের সংযোগের জন্য গত তিন বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কালীগঞ্জ শাখায় আবেদন করেন। আবেদনের পর স্থানীয় বিদ্যুতের দালাল সাইফুল ইসলাম প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার প্রতিটি ১২/১৫ হাজার টাকা বুঝে নেন এবং তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিন বছর তিন মাস অতিবাহিত হলেও খুঁটি, লাইন বা মিটার কোনটাই তাদের ভাগ্যে জুটেনি। এরই মাঝে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বে-সরকারি খাতে চলে যাওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় তাদের নতুন সংযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে বিপাকে পড়েন বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা ও দালাল চক্রটি। এ দিকে গ্রাহকদের চাপের মুখে গত বছর ওই গ্রামের ৩৩টি পরিবারের জন্য ৩৩ টি মিটার পাঠান দালাল সাইফুল ইসলাম। খুঁটি বা লাইন না পাওয়ায় গ্রাহকরা মিটারগুলো বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত জুন মাসে এসব গ্রাহকদের জনপ্রতি ৫ হাজার ৯৩ টাকা হারে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯৯ টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নেসকো। বিদ্যুৎ বিল দেখে হতভম্ভ গ্রাহকরা বিলের কাগজপত্র নিয়ে কালীগঞ্জ বির্যুৎ অফিস গিয়ে এর সমাধান দাবি করলেও কোন কাজ হয়নি। ফলে ১০ জুলাই এসব ভুয়া বিল বাতিল করে দ্রুত লাইন সংযোগ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সরেজমিনে ঘুরে ভুক্তভুগিদের সাথে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করা হচ্ছে। এ প্রতিবেদন ১৫ জুলাই রবিবার জেলা সম্বন্বয় কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে ভুক্তভুগিদের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। এসব বিল মওকুফ করতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম