
লাল দর্পণ।। বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ব্যস্ততম ষ্টেশন হিসেবে সুপরিচিত লালমনিরহাট রেলওয়ে ষ্টেশন। ব্রিটিশ শাসনামলে এখানে গড়ে উঠে রেলওয়ে উপনিবেশ। বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি হয় রেলওয়ে প্লাটফরম ও জংশন ওভার ব্রীজ।
লালমনিরহাট রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় আশ্রয় নেয়া নদী ভাংগা, বাস্তুহারা, ছিন্নমূল ঠিকানাহীন মানুষের মুখে ২০১২ সাল থেকে সপ্তাহে একবেলা খাবার তুলে দিয়ে সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠত সেচ্ছাসেবী সংগঠন নদী ভাংগা পরিষদ।
রাত হলেই ষ্টেশনের বিশাল প্লাটফরমের বারান্দা হয়ে দাড়ায় শত শত নদী ভাংগা, বাস্তুহারা, ছিন্নমূল ঠিকানাহীন মানুষের অস্থায়ী আবাসস্থল। এসব ছিন্নমুল মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে এখানে রাত্রি যাপন করেন। সকাল হলে আবার বেড়িয়ে পড়েন জীবন সংগ্রামে লিপ্ত হতে। তাদের দুঃখ দূর্দশা ভাগ করে নিতে প্লাটফরমের এক পাশে এ সংগঠনটি ২০১২ সাল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করে আসছে।
প্রতি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার পর থেকে শুরু হয় নদী ভাংগা, বাস্তুহারা, ছিন্নমূল ঠিকানাহীন ৩-৪’শ মানুষের জন্য খাবার তৈরির আয়োজন। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকেন নদী ভাংগা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান সহ অন্যান্য সেচ্ছাসেবী কর্মীরা। সন্ধ্যার পর লোকজন এসে এখানকার অব্যবহৃত রেল-লাইনের উপর সারিবদ্ধভাবে বসে খাবার রান্নার অপেক্ষায় থাকেন। রান্না শেষ হলে সবাই সম্মিলিতভাবে দোয়া ও মুনাজাত করেন। এরপর শুরু হয় খাবার বিতরণ। খাবার নিয়ে সন্তুষ্টচিত্তে চলে যান বাস্তুহারা, ছিন্নমূল এসব মানুষ।
সংগঠনটির কার্যক্রম শুধু এখানেই সীমাদ্ধ নয়। এ সংগঠন রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, ঈদের সময় নতুন পোষাক, সেমাই, চিনি বিতরণ এবং শীত কালে শীতবস্ত্র বিতরণ করে আসছে। এর সাথে যোগ হয়েছে স্বেচ্ছায় রক্তদান, বেওয়ারিশ লাশ দাফন ও অসুস্থ ছিন্নমূল মানুষদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ।
নদী ভাংগা পরিষদ তাদের এ মহতী উদ্যোগের জন্য যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সমাজের বিত্ত¡বানরা পাশে দাড়ালে হয়তো মানবতার সেবায় আরও অনেক অবদান রাখতে সক্ষম হবে এ নদী ভাংগা পরিষদ।