
লাল দর্পণ।। পুত্র শোকে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ মিরাজের পিতা আব্দুস সালাম (৫৫)। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।।
জানাজা নামাজে লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এ্যাডভোকেট আবু তাহের, জেলা সেক্রেটারী এবং আদিতমারী- কালীগঞ্জ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোঃ ফিরোজ হায়দার লাভলু, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ মাওলানা হাবিবুর রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এ.এইচ. এম. রাকিব হায়দার, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক মোঃ হামিদুর রহমান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও জনতার সাথে ঢাকায় অংশ নেন শিক্ষার্থী মিরাজ খাঁন। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখ ঢাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন মিরাজ খাঁন। সহযোদ্ধারা প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে অস্ত্রপাচারে গুলি বের করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট ২০২৪ ইং বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। মিরাজ আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া সর্দারপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। তিনি দনিয়া মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম সেই দিন বলেন, আমার ছেলে কোটা সংস্কার তথা হাসিনা হটাও আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিরাজ শহীদ হয়েছে। শহীদ ছেলের আত্নার শান্তিকামনায় তিনি সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন। অবশেষে ছেলের শোক সইতে সইতে আব্দুস সালাম ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার মৃত্যুুতে এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। কাঁন্নায় ভেঙে পড়ে শহীদ নিহত মিরাজের মা ও ২ ভাই।
ওই দিন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এ.এইচ.এম. রাকিব হায়দার ও লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম মহিষখোচা বাজারে যান। দুপুর ১২ টা নাগাদ তারা শহীদ নিহত মিরাজের বাবা আব্দুস সালামের দোকানে খোঁজ নিতে গেলে সে সময় আব্দুস সালাম আনন্দিত হয়ে তাদের ফুলেল শুভেচছা জানান। তারা নিজ নিজ দপ্তরে ফিরতে না ফিরতেই খবর পান যে, আব্দুস সালাম মারা গেছেন। মূহুর্তেই তারা শোকাহত হয়ে পরেন। তারা উভয়েই জানাযা নামাজে শরিক হয়েছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ যে, শহীদ নিহত মিরাজ খাঁনের পরিবারকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় ২ লাখ টাকা এবং লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছিলো। তাছাড়া তার পরিবার সরকারী অনুদানের কোনো টাকা পেয়েছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।