
দৃষ্টি রাখা জরুরি
– জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত
প্রতিবছর রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তবে দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক কারণে যতটুকু বাড়ার কথা, তার চেয়ে অধিক হারে বাড়ে। এ ক্ষেত্রে শুধু অসাধু ব্যবসায়ীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ রমজান আসলেই পথে পথে চাঁদাবাজির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। আগে থেকেই অনুমান করে পর্যাপ্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করলে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব। আমাদের দেশে এ ব্যবস্থা দীর্ঘদিনেও গড়ে ওঠেনি। এবার যেন দ্রব্যমূল্য ন্যায্য পর্যায়ে থাকে, সেদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি রাখা জরুরি।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেশ কিছু প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি হয়, প্রয়োজনের তুলনায় সেগুলো বেশি পরিমাণে মজুদ রয়েছে। এতে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই বলে বাণিজ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসায়ীরা। এমনকি পরিবহন খরচ কমানো, বন্দরে পণ্য খালাস দ্রæত করা, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো গেলে পণ্যমূল্য আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অপর দিকে ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। রমজান মাসে পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে এ বৈঠক ডাকা হয়।
তবে প্রতি বছরই রমজান মাসের আগে ব্যবসায়ীদের নিয়ে এমন বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা পণ্যম‚ল্য বাড়বে না বলে আশ্বাসও দেন। অথচ রমজান শুরুর কয়েক দিন আগেই সব ধরণের পণ্যম‚ল্য বেড়ে যায়। অনেক সময় দেখা গেছে, রমজানের ঠিক আগে আমদানিকারকরা তাদের পরিশোধন কারখানা সংস্কারের নামে বন্ধ রেখে উৎপাদন ও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।
রমজানের পরই আসে খুশির ঈদ। সেই ঈদকে উপলক্ষ করে যেভাবে সাজসজ্জার জন্য মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েন তাতে করে পোশাক-আশাক ও জুতাসহ অন্যান্য দ্রব্যের দাম অধিক হারে বেড়ে যায়। তাই খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য সব দ্রব্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সংযমী হওয়া উচিত। রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে সরকারের পাশাপাশি উৎপাদনকারী, বিক্রেতাদেরও একটি বলিষ্ঠ ভ‚মিকা থাকা দরকার। অন্যদিকে ক্রেতাসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আইনি সহায়তা প্রদান করতে পারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
———————–
জাহেদুল ইসলাম সমাপ্ত
কবি ও সাংবাদিক
লালমনিরহাট