তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ১০ মিনিট স্তব্ধ কর্মসুচি

লাল দর্পণ।। তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পানিবণ্টন চুক্তিসহ ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষে ১০ মিনিট স্তব্ধ কর্মসুচি পালন করেছে তিস্তাপাড়ের ২৩০ কিলোমিটার এলাকার লোকজন। নদীর দুই পাড়ের প্রায় দুই শতাধিক হাট-বাজারে দাঁড়িয়ে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য স্তব্ধ থেকে প্রতিবাদ জানায় হাজার হাজার মানুষ।

২৪ মার্চ বুধ বার বেলা ১১টা থেকে ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। তিস্তা নদীর দুই তীরের প্রায় দুই শতাধিক হাট-বাজার ও বন্দর ১০ মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ এ স্তব্ধ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বাংলাদেশে তিস্তা নদীর প্রবেশ মুখ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই জিরো পয়েন্ট থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ঘাট পর্যন্ত ২৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০ মিনিটের স্তব্ধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া মানুষের হাতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। তারা তিস্তা বাঁচানোর আকুতি নিয়ে বুকে ধারণ করেন নানা ধরনের স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড। এতে ‘তিস্তা বাচাঁও, নদী বাচাঁও সংগ্রাম পরিষদ’ এর নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। ১০ মিনিট স্তব্ধ থাকার পর ছয় দফা দাবি এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নেতা-কর্মীরা।

বক্তারা বলেন, সরকার তিস্তা রক্ষায় যে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তিস্তা রক্ষা হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা চুক্তি সই না হওয়ায় উত্তরের দুই কোটি মানুষ খরা ও বন্যায় নিষ্পেষিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষদের বাঁচাতে তিস্তা চুক্তি সই এবং মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাবছর পানির প্রবাহ ঠিক রাখা, ভাঙন, বন্যা ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, কৃষক সমবায় ও কৃষিভিত্তক শিল্প কলকারখানা, তিস্তার শাখা-প্রশাখা ও উপ-শাখার আগের অবস্থায় সংযোগ স্থাপন এবং দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে কৃষিনির্ভর এ জনপদ মরুভূমিতে পরিণত হবে। হুমকির মুখে পড়বে এখানকার কৃষি, পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীবনরেখা।

তারা আরও বলেন, তিস্তা ড্রেজিং করে কোটি মানুষের দুঃখ ঘোচানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তিস্তা তীরবর্তী পাঁচটি জেলার আর্থিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। তিস্তা তীরের মানুষের দুঃখের দিন শেষ হবে। বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা। তাই তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নদীর দুই তীরের ২৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এবার স্তব্ধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’ এর লালমনিরহাট জেলা সভাপতি গেরিলা লিডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, তিস্তা বাঁচলে আমরা বাঁচবো। তিস্তার বুক থেকে ভারত এক তরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে আমাদের বাঁচার অধিকার হরণ করা হয়েছে। আমরা এখন বাচঁতে চাই। সংগঠনটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ডক্টর তুহিন ওয়াদুদ বলেন, উত্তরের জীবন রেখা আজ মড়তে বসেছে,এ জীবন রেখা তিস্তাকে বাঁচানোর জন্য আমরা আজ ১০ মিনিট স্তব্ধ কর্মসুচী পালন করেছি। আমাদের প্রধান দাবী হচ্ছে তিস্তার মহাপরিকল্পনা নদীর স্বার্থ বজায় রেখে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সাথে তিস্তার পানি বন্ঠন চুক্তিও আমরা চাই। এই দুই দাবীর দ্রুত বাস্তবায়ন এর দাবীতেই আজ এ কর্মসুচী পালন করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসবেন। আমরা চাই তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হোক। এ মাহেন্দ্রক্ষণে উদ্বোধন করতে হবে তিস্তা নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বিষয়ক মহাপরিকল্পনার কাজ। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অভিন্ন পানি চুক্তি ও অবিলম্বে নদী খনন করতে হবে। অন্যথায় তিস্তাকে রক্ষা করা যাবে না।

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম