
লাল দর্পণ ডেস্ক ।। গেরিলা কমান্ডার মো: নজরুল ইসলাম এনডিসি। জন্ম ১৯৫০ সালে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামে নানার বাড়িতে। শৈশব কেটেছে একই জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি তিস্তা পাড়ে নিজ বাড়িতে। পিতা আব্দুল গফুর মিয়া, মাতা হালিমা খাতুন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক রংপুরের আদি শহর মাহিগঞ্জে। কারমাইকেল কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী। স্কুল জীবনে রংপুর জেলা বয়েস্কাউটের কন্টিনজেন্ট লীডার ছিলেন। সক্রীয় ছিলেন ক্রীড়া ও ছাত্র রাজনীতিতে। স্নাতক সম্মান চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা পাশে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েন সত্তুরের নির্বাচন ও একাত্তুরের অসহযোগ আন্দোলনে। মার্চ এর দ্বিতীয় সপ্তাহে পাক আর্মি কর্তৃক বন্দী হয়ে রংপুর সেনানিবাসে আটক থাকেন। পরে মুক্ত হয়ে শহর উপকণ্ঠে তৎপর হন। এসময় ভারতে আশ্রয়প্রার্থী মানুষের সহায়তায় কাজ করেন। তিনি যুব সমাজকে সংগঠিত করে ভারতে গমণ করেন এবং ভারত-ভুটান সীমান্তের ম‚র্তি পাহাড়ে ও মুজিব ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ‘গেরিলা কমান্ডার’ হিসেবে ৬ নম্বর সেক্টরে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিয়ে বীরত্বপ‚র্ণ অবদান রাখেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নজরুল ইসলাম বিজয়ের সকালে স্বদলবলে আত্ম প্রকাশ করেন এবং রংপুর শহরের মাহিগঞ্জে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ ভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ন্যাশনাল মিলিশিয়া গঠিত হলে তিনি তার উইং কমান্ডার নিযুক্ত হন। পরে অস্ত্র সমর্পণ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার জন্য স্টেশন রোডস্থ পরিত্যাক্ত বিল্ডারস স্টোরে ‘রংপুর জেলা মুক্তি সেনানি সংস্থা’ গঠন করে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তা রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলে একীভ‚ত হয়।
মো: নজরুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশিষ্ট পাঠ সমাপ্ত করে অর্থনীতিতে বি.এ (অনার্স) এবং এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সুপিরিয়র সার্ভিসের প্রথম ব্যাচে প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে যোগদান করেন। সিভিল সার্ভিসের ৩৪ বছরের চাকুরি জীবনে তিনি শিল্প, পাট, প্রতিরক্ষা, ডাক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, শিক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরে পদস্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে বিনিয়োগ বোর্ড, বাংলাদেশ -এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন শেষে সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তী ছয় বছর তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক বহুজাতিক কোম্পানিতে নির্বাহী পরিচালক পদে কাজ করেন। মো: নজরুল ইসলাম শ্রীলংকার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন সিভিল সার্ভিস কলেজ, জার্মানির অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট একাডেমী, জাপানের অকিনাওয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার এ দীর্ঘ সময় লেখাপড়া করেছেন। পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা সফর ও রাষ্ট্রীয় কাজে পঁচিশটি দেশে ব্যাপক ভ্রমণ করেছেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ (এনডিসি) -এর একজন গর্বিত গ্র্যাজুয়েট। মো: নজরুল ইসলাম এনডিসি একজন সমাজ সংগঠক। তিনি রংপুর জেলা মুক্তি সেনানী সংস্থার সভাপতি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা বিসিএস অফিসার কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা সরকারী কর্মকর্তা পরিষদ এর মহাসচিব, বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ফোরাম -এর সভাপতি, রংপুর বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ এর সভাপতি, বৃহত্তর রংপুর কল্যাণ সমিতি, ঢাকা -এর সভাপতি, লালমনিরহাট জেলা সমিতি, ঢাকা -এর সভাপতি এবং কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এ সংগঠনগুলোর সাথে এখনও সংশ্লিষ্ট আছেন। তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির একজন ফেলো এবং একজন একনিষ্ঠ গলফ খেলোয়াড়। তিনি একজন কবি, লেখক, অনুবাদক ও দক্ষ সংগঠক। কবিতার বই ‘হৃদয় দিয়ে ভালবেসো’, জার্মান কবি ও দার্শনিক জে ডবিউ ফন গোয়েথের নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ ‘গোয়েথের কবিতা’, গোয়েথের কৌতুক নাটকের অনুবাদ ‘খেয়ালী প্রেমিক’ এবং কবি ও দার্শনিক আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের নৈর্বাচনিক পদ্য ‘পাইয়াম-ই-মাশরিক’ এর অনুবাদ ‘প্রাচ্য বার্তা’ তাঁর প্রকাশিত বই। তাঁর স্মৃতিচারণম‚লক বই ‘রণাঙ্গনে আমার রাত-দিন’ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি দুই সন্তানের জনক।