খেতাবধন্য ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক

শৌর্য দীপ্ত সূর্য ।। একাত্তরের রণাঙ্গনের সাহসী যোদ্ধা বীর মুক্তযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আজিজুল হক ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১ এপ্রিল লালমনিরহাট জেলা শহরের দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে রামকৃষ্ণ মিশন রোডে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ছখি উদ্দিন আহম্মেদ, মাতার নাম মোছাম্মদ আছিয়া খাতুন এবং স্ত্রীর নাম মিসেস ফরিদা হক। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অন্তর্ভূক্ত হন। নিজ যোগ্যতা বলে তিনি পরবর্তীতে ১৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন ‘কোয়ার্টার মাষ্টার’ মনোনীত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ডের আওতায় যুদ্ধ করেন। ৬ নম্বর সেক্টর কমান্ডের গ্রæপ ক্যাপ্টেন ছিলেন এম.কে. বাশার (পরবর্তীতে এয়ার চীফ)। ক্যাপ্টেন আজিজুল হক ৬ নম্বর সেক্টরের সাহেবগঞ্জ (ভারত) সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। এ সাব সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মো: নওয়াজেস উদ্দিন আহমেদ। কুড়িগ্রাম জেলার জয়মনিরহাট, ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, পাটেশ্বরী, রায়গঞ্জ এবং লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা ছিল এ সাব-সেক্টরের আওতাধীন এবং তাঁর যুদ্ধকালীন কর্ম এলাকা।
ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীরপ্রতীক মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় ১৬ নভেম্বর, ১৯৭১ খ্রি: আনুমানিক সকাল ৭.৩০ টায় নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী সড়কের সন্তোষপুর নামক স্থানে পাক বাহিনীর দু’জন সৈন্যকে দেখতে পান। সে সময় এ দু’জন পাক সেনা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তারপরও ক্যাপ্টেন আজিজুল হক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দু’জনকে জীবীত অবস্থায় ধরে ফেলেন। এদের একজন ৪৮ফিল্ড আর্টিলারী কোরের সিপাহী আতা মোহাম্মদ এবং অপরজন ২৫পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সিপাহী আসলাম খান নেওয়াজী। আটককৃত এ দু’জন পাক সেনার কাছ থেকে ৭.৬২ মডেলের দু’টি চাইনিজ রাইফেল (যার নম্বর ছিল ৯৫০ ও ৯৯০) এবং দু’জনের নিকট থেকে মোট ৪০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতা ও সাহসিকতার জন্য তাঁকে স্বাধীনতা পরবর্তীতে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে ন্যাশনাল মিলিশিয়া গঠিত হলে তিনি তখনকার গাইবান্ধা মহকুমা ন্যাশনাল মিলিশিয়ার ক্যাম্প কামান্ডেন্ট নিযুক্ত হন।
ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক স্বাধীনতা যুদ্ধ করে আমাদের দেশকে শত্রæ মুক্ত করে এখনও যুদ্ধ করে যাচ্ছেন সমাজের নানাবিধ অশুভ শক্তির সাথে। এ দেশকে শোষণহীন দুর্নীতি মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি লালমনিরহাট জেলার একমাত্র জীবিত খেতাবধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক -এর পারিবারিক পরিচয়:
ক্যাপ্টেন (অব:) আজিজুল হক বীর প্রতীক ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক।
পুত্র ফয়ছাল হক (অনিক) এবং কন্যা আরবী হক (অজন্তা)।

———————–
শৌর্য দীপ্ত সূর্য
কলামিস্ট ও নাট্যকার
লালমনিরহাট

print

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য নিউজ সমূহের শিরোনাম